সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের : বি এইচ হারুন এমপি

২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের ৮৭তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে  দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ-সৌদি আরব সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন

ঢাকা: মধ্য প্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় ৪১ বছরের। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অতীতের যে  কোন সময়ের চেয়ে সবচেয়ে ভালো ও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।  গেল বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরবে দ্বিপাক্ষিক সফরের পর দুইদেশের সম্পর্কে এসেছে নতুন গতি। কয়েকবছর বন্ধ থাকার পর ২০১৬ থেকে আবারো বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক হারে কর্মী নেয়া শুরু করে সৌদি আরব। কোটা বৃদ্ধির পর এছর রেকর্ড সংখ্যক প্রায় একলাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। দেশের বিভিন্ন  প্রান্তে মডেল মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে এসেছে সৌদি সরকারের নতুন করে অনুদান।

বাংলাদেশ সৌদি আরব সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের চেয়ারম্যান বজলুল হক হারুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে  বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে।  বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অপ্রচার ও ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে এই সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছি। 
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সৌদি আরবের সরকারি ও বেসরকারি অবদান অন্য যে কোনো দাতা দেশের তুলনায় কম নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অবদান অনেকাংশে বেশি।উল্লেখ্য, সাবেক সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বাংলাদেশের সিডর আক্রান্ত উপকূলীয় এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে গোপনে দান করেছিলেন। আর এ দানের কথা তার মৃত্যুর আগে কেউ জানত না।দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সংসদ সদস্য বি এইচ হারুন বলেন, সৌদি আরবের সরকার বরাবরই আত্মপ্রচারবিমুখ। অথচ তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি ডলার দান করে যাচ্ছেন। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে অনার্স, মাস্টার্স, পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশী।

বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে বেশ গুরত্ব দেয় সৌদি আরব।সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের আমন্ত্রণে গেল মে মাসে আরব ইসলামিক আমেরিকান সামিটেযোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে যান।এই আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের প্রতি আস্থারবহিঃপ্রকাশ। সেখানে সৌদি আরবসহ অনান্য মুসলিম দেশের নেতৃত্ব বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন,যোগ করেন মি: হারুনপাচ বছর আগে বজলুল হক হারুনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল রিয়াদে যায়সেসময়  সৌদি আরবের পার্লামেন্টে নারী সংসদ সদস্যদের অর্ন্তভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এখন দেশটির সংসদে ৩০ জন নারী সংসদ  সদস্য রয়েছেন সৌদি আরব মুসলিম দেশগুলোর অভিভাবক। তাই তাদের কাছে আমদের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবে বেশি। অভিভাবক হিসেবে দেশটি মুসলিম দেশগুলোর ঐক ও ভাতৃত্বের বিষয়ে সামনের দিক থেকে নেতৃত্ব দিবে। ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে ইসলামের ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে যে অগ্রণী ভূমিকা সৌদি আরব রাখছে, সামনের দিনে তা আরো ক্রমবিকাশমান হবে ৮৭তম জাতীয় দিবসে বন্ধুপ্রতীম দেশটির সকল নাগরিকের প্রতি শুভেচ্ছা রইলো।দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরেও দুইদেশের নাগরিকদের মধ্যে যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে তা অটুট থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

মন্তব্যসমূহ