সম্প্রতি ২০১৮ সালের হজ ও ওমরাহ নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রী সভা। এবারের হজ নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন দীর্ঘদিন ধরে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের
| ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের |
এ বছর সৌদি সরকার আর কোটা না বাড়ালে বাংলাদেশ থেকে হজ করতে যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন সাত হাজারের মতো। বাকিরা যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন হজ এজেন্সীর মাধ্যমে। সরকারিভাবে যেতে একজন হজযাত্রীর সর্বনিমন্ন খরচ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আটশো টাকা।
এবারের হজ নীতিমালায় হজে যাওয়ার আগে একজন যাত্রীর যে পুলিশ
ভেরিফেকশনের নিয়ম ছিল তা বাদ দেয়া হয়েছে।
“এটি একটি অত্যান্ত ভালো সিদ্ধান্ত। যারা হজে যান তাদের এমআরপি
পাসপোর্ট করাতে এমনিতেই পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। এরপরও আলাদা করে হজের যাওয়ার
জন্য আবারও পুলিশ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল অযৌক্তিক। এতে দেখা গেছে অনেকই হয়রানি
ও দুর্ভোগে পড়তেন। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে একজন হজযাত্রীর ভিসা, টিকেটসহ সবই
হয়েছে, তবে পুলিশ প্রতিবেদন আসতে দেরি হওয়ায় তিনি আর হজে যেতে পারেননি,” বলেন মি.
নাসের।
হজযাত্রীদের হজে যাওয়ার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা তুলে নিতে
হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদ দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিল। এ প্রথা বাতিল করায়
ধর্মমন্ত্রণায়ের মাননীয় মন্ত্রীসহ সকলকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানায়, যোগ করেন
তিনি।
এবার হজযাত্রীরা তাদের নিজেদের ট্রলি ব্যাগ নিজেরাই কিনবেন বলে
নীতিমালায় বলা হয়েছে। এটিও একটি ভালো সিদ্ধান্ত। গেল বছর এজেন্সীর গুলো এর আগে
এজেন্সী গুলোর সংগঠন হাব ট্রলি ব্যাগ কেনার কাজ করে আসছিল। এতে দেখা গেছে বেশি
টাকা নিয়ে হজ যাত্রীদের অত্যান্ত নিম্নমানের ব্যাগ সরবরাহের চিত্র। এতে
বিমানবন্দর, এমনকি সৌদি আরবে পৌছে ব্যাগের চাকা, হাতল ভেঙ্গে যাওয়ায ব্যাগ নিয়ে
চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো যাত্রীদের।
এবার নির্দিষ্ট সাইজের ব্যাগ হজযাত্রীরা তাদের পচণ্দ ও সাধ্য অনুযায়ী
কিনতে পারবেন। এতে অনিয়মের আর সুযোগ থাকছে না।
এবার হজযাত্রীদের হজে যাওয়ার পুরো টাকা নিবন্ধনের সময় স্ব স্ব
এজেন্সীকে দিতে বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে লাভবান হবেন যাত্রীরা। এতে দালালদের
কাছে টাকা যাওয়ার সুযোগ কমবে। ফলে একজন যাত্রী যে টাকা দিবেন তার পুরো সেবাই
পাবেন।
এবারও হজ নীতিমালার মন্দ দিক হজে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ মাত্র বিমান ও
সৌদি দুটি এয়ার লাইন্সকে দেয়া। এতে বিমান ভাড়া যেমন সাধারণের সময়ে চেয়ে তিনগুণ
বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি অনেক বেশি টাকা দিয়েও হজ ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কা সামলাতে
হবে হজ যাত্রীদের। আশা করছি এ সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন