| মাওলানা ফজলুর রহমান |
ঢাকা:বাংলাদেশ থেকে হজ যেতে ইচ্ছুক মানুষের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি
পেয়েছে। এর সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হজ যাত্রীদের হয়রানি আর ভোগান্তি। গেল
কয়েক বছর ধরে বেশ গুরত্বের সঙ্গে যা উঠে আসছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।একটা সময় ছিল
বাংলাদেশ থেকে হজে যেতেন বছরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার হজযাত্রী। তবে গেল কয়েক বছর থেকে
এই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এতো মানুষকে হজে পাঠাতে আমরা প্রতিবছরই প্রায় একইধরণের
সমস্যা দেখতে পাচ্ছি, বলেন দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে
নিয়োজিত হজ এজেন্সীগুলোর সংগঠন হাবের বর্তমান কমিটির অর্থ সম্পাদক মাওলানা ফজলুর
রহমান।
ভোগান্তি থেকে বাচতে সবার আগে সচেতন
হতে হবে হজযাত্রীদের। আমাদের দেশের হজযাত্রীদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন অসচেতন। যারা
না বুঝেই প্রথমে হজে যেতে দালালের খপ্পরে পড়েন। তারা সরাসরি বৈধ হজ এজেন্সীগুলোকে
টাকা না দিয়ে পাড়া-মহল্লা কিংবা গ্রামের দালালদের কাছে টাকা দেন। এরপর থেকেই শুরু
ভোগান্তি।কেননা দালালরা হজ যাত্রীদের পাঠাতে পারে না। তাদের উদ্দেশ্য থাকে নিজেদের
কমিশন। অনেকসময় দেখা যায় তারা পুরো টাকা নিয়েই উধাও হয়ে যায়। তাই যারা হজে যেতে
চান তাদের উচিত বৈধ এবং ভালো এজেন্সীর কাছে সরাসরি টাকা জমা দেয়া, যোগ করেন মি: ফজলুর রহমান।
পাওয়ায় অনেকে যেবছর হজে যাওয়ার
পরিকল্পনা করেছেন সেভাবে যেতে পারছেননা।
সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুসারে
এরিমধ্যে হজে যেতে ইচ্ছুকদের নাম অনলাইনে প্রাক নিবন্ধনসহ সার্বিক হজ কার্যক্রম
ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এরিমধ্যে এবছরের কোটা পূরণ হয়ে আগামী বছর হজে যাওয়ার জন্য
অন্তত একলাখ ৪৫ হাজার জন প্রাক নিবন্ধিত হয়েছেন। ফলে কোটার সংখ্যা না বাড়লে আগামী
বছরও অনেকে হজে যেতে পারবেন না। তাদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২০ সালের জন্য, বলেন তিনি।
তাই টাকা জমা দেয়ার পর একজন হজযাত্রীকে বুঝতে হবে তার হজের
যাওয়ার সিরিয়াল কোন বছরের জন্য। তাই যেনে বুঝে নিশ্চিত হয়ে হজে যাওয়ার জন্য পুরো
টাকা জমা ও প্রস্তুতি নিতে হবে।
অন্যদিকে হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের উপর রয়েছে
সুষ্ঠ হজ ব্যবস্থপনার গুরু দ্বায়িত্ব। এখানে ধর্ম,
বিমান ও স্বরাষ্ট্র এই তিনমন্ত্রণালয়েরই দ্বায়িত্ব রয়েছে। বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কাজের সমন্বয় না থাকায় হজ ব্যবস্থপনায়
বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
ফলে প্রতি বছর হজ ব্যবস্থপনায় প্রায় একবছর সময় পাওয়ার পরও
অব্যবস্থাপনা দূর করা যাচ্ছে না, বলেন তিনি। দেশে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করে থাকে।
তাই হজ ব্যবস্থপনায় শৃঙ্খলা আনতে এজেন্সীগুলোর মতামত শুনতে হবে। তাদের প্রতিপক্ষ
ভাবলে হবে না। সমস্যার গভীরে যাওয়ার সময় এখনই, যোগ করেন মাওলানা
ফজলুর রহমান।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন